‘অদম্য সেরাদের সেরা’ অসামান্য আয়োজন, ভালবাসা ও কৃতজ্ঞতা

অরাজনৈতিক, সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক সংগঠন অদম্য-২০০৫ এর আয়োজনে সম্পন্ন হলো মীরসরাইয়ের ‘আইডল’ শিক্ষার্থী অন্বেষণে মাধ্যমিক পর্যায়ের সেরাদের সেরা প্রতিযোগিতার লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষা । ১৭ নভেম্বর ও ২৪ নভেম্বর দুটো শুক্রবারই অদম্য টিমের কাটলো দারুণ ব্যস্ততায়। পুরো আয়োজনের পরিচালক হিসেবে দায়্ত্বি পাওয়ায় অন্যদের চেয়ে হয়ত দায়বদ্ধতা নিজের একটু বেশিই হবার কথা ছিল, কিন্তু শুধুমাত্র দিকনির্দেশনা দেয়া ছাড়া বাকি কোনো কার্য আমরা দ্বারা সম্পন্ন হয়নি। রিয়েল হিরো তারাই, যারা মাঠে কাজ করেছে, চষে বেড়ালেন উপজেলার উত্তর থেকে দক্ষিণ আর পূর্ব থেকে পশ্চিম।

প্রথমেই আমি কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই, উপজেলা সদরের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান মীরসরাই মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও বামনসুন্দর এফ এ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং স্কুল পরিচালনা কমিটির প্রতি। কারণ, এ দুটি প্রতিষ্ঠান তাদের বিদ্যালয়ের কক্ষ ও যাবতীয় সরঞ্জাম ব্যবহার করার সুযোগ দিয়ে আমাদের ঋণী করেছেন। এরপর আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি বর্ণাঢ্য এই আয়োজনের মূল পুরস্কার প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নুর ইসলাম ফাউন্ডেশনের পরিচালক মিরাজ ভূঁইয়া ও আরশাদ নুরের প্রতি। শুধুমাত্র পুরস্কারের স্পন্সরই নয়, পুরো আয়োজন জুড়ে তারা উৎসাহ দিয়ে গেছেন পুরো অদম্য টিমকে। কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি অদম্য ওয়েলফেয়াল ফাউন্ডেশনের সকল আজীবন সদস্যদের প্রতি। যারা সংগঠনের নানা আয়োজনে নিজ থেকেই এগিয়ে এসে সহযোগিতা করছেন, সাহস দিচ্ছেন প্রতিনিয়ত। আমি বিশ্বাস করি, এভাবে প্রত্যেকে অদম্য টিমের পাশে থাকলে অদম্য পরিবার আরো বড় বড় আয়োজন করতে সক্ষম হবে। শুধু তাই নয়, একসময় এই অঞ্চলের সেরা সংগঠনের তালিকায় নাম লেখাতেও সক্ষম হবে আমাদের সকলের প্রিয় এই সংগঠন।


কিছু কথা না জানালে, অজানাই থেকে যাবে হয়ত। যেমন, পুরো আয়োজনের ভার কাঁধে নিয়ে অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে অদম্য ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের সভাপতি নিয়াজ মুহাম্মদ সাজেদ। আমার বন্ধু বলে নয়, দিন দিন যেভাবে পরিশ্রম করছে ছেলেটা, নিজেকে স্বেচ্ছায় বিলিয়ে দিচ্ছে সমাজ সেবায়, বলতে বাঁধা নেই এই অঞ্চলের মুখ উজ্জ্বল করে একদিন সমগ্র মীরসরাইয়ের সেরা সংগঠকের পুরস্কার জিতবে এই ছেলে। সেরাদের সেরা আয়োজন তাকে সেই পথের একধাপ এগিয়ে দিল। এনামুল হক, অদম্য-২০০৫ এর সভাপতি। যার অনুপ্রেরণায় পুরো অদম্য টিম থাকে প্রফুল্ল, যে কিনা এখনো সংগঠনের কোনো পেপার শাদা কালো ছাপাতে দেননি। প্রতিযোগিতার যুগে রঙ্গিন আলো ছড়ানোর কারিগর জ্বর ও অসুস্থতা নিয়েও উক্ত আয়োজন সম্পন্ন করেছে যথা সময়ে। যার হাত ধরে সময়ের গুরুত্ব দিতে শিখে গেছে পুরো অদম্য টিম। হাসান আরিফ, যার এখন আর পুরস্কার নেয়ার সময় নেই, সময় এখন শুধু নিজের হাতে পুরস্কার দেয়ার। তাকে সাধারণ কোনো বিশেষণে আমি কখনো বিশ্লেষণ করতে পারিনা। মূলত, যার হাত ধরেই আজকের অদম্য, আজকের আমরা এবং আমাদের নানা আয়োজন। এক বুক সাহস আর বন্ধুদের ঐক্যবদ্ধ শক্তি কাজে লাগানোর সকল কলা-কৌশল এবং তার মাধ্যমেই প্রথম প্রস্তাব, যা মূলত প্রাণ পায়। এরা একেকজন নিবেদিত কর্মী। যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করতে পারে, করছেও। বিভিন্ন সময় এদের পাশে থেকে শক্তি বৃদ্ধি করেছে মঞ্জু, দিদার, নজরুল, মহসিন, লিটন, সালাউদ্দিন, ভাসানী, মেজবা, জয়নাল, রাজেশ, কামরুল, মিশু, আরিফ, রিগারা। এভাবে অনেকের নাম এসে যাবে। ওয়েলফেয়ার টিমের নাজমুল, রকি, তানিন, মাসুম, জাহেদ, কামরুল সহ আরো যারা প্রথম কাতারে থেকে শ্রম দিয়ে এ আয়োজন সফল করেছে তাদেরও আমি স্মরণ করতে হবে বিনা দ্বিধায়। একটি সফল আয়োজনের পেছনে যে কতটুকু শ্রম দিতে হয় তা আমার ভাল করেই জানা। এটি প্রকৃত সংগঠকদেরও অজানা থাকার কথা নয়। ২০০৫ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছিল ‘অদম্য-২০০৫’ একথাটি যেমন সত্য, তেমনি ধ্রুব সত্য এটি এখন কোনো ব্যাচ নয়, একটি পূর্ণাঙ্গ সংগঠন। একটি সামাজিক সংগঠনের যা যা প্রয়োজন তার কোনো অংশেই কম নেই, যদিওবা প্রতিযোগিতার বাজার অদম্য একেবারেই নতুন। তবে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বা রাখতে নিজেদের সেরাটুকু দিতে মরিয়া সকলে। আমি সব সময় বলি, অদম্য টিমের সকল সদস্য কখনো একসঙ্গে ঘুমিয়ে পড়ে না। কেউ কাজ করে, কেউ বিশ্রাম করে। কেউ ঘুমায়, কেউ জেগে অপেক্ষা করে। এভাবেই চলছে সংগ্রাম।


নানা ব্যতিক্রমী চিন্তা থেকেই মূলত গতানুগতিক ধারার মেধা বৃত্তি বা শিক্ষা ‍বৃত্তি থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের এ আয়োজন সেরাদের প্রতিযোগিতা। এ আয়োজন করতে গিয়ে বেশ কিছু বিষয় আমরা দারুণভাবে নির্ণয় করতে পেরেছি। ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে শিক্ষকদের সম্পর্ক, অভিভাবকের শিক্ষা সচেতনতা, জানার-শেখার আগ্রহ এবং ইচ্ছে শক্তি কেমন শিক্ষার্থীদের, পাশাপাশি পাঠ বইয়ের বাইরে কার কেমন অভিজ্ঞতা বা জ্ঞানের পরিধি প্রসারিত হচ্ছে তাও বুঝার চেষ্টা করা হয়েছে এ আয়োজনে। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আমাদের টিম প্রায় তিন থেকে চার বার করে ভিজিট করেছে। কারণ আমরা একটি সুন্দর পরিবর্তনে বিশ্বাস করি। যার ফলাফল স্বরূপ কমর আলী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়, চিনকি আস্তানা উচ্চ বিদ্যালয়, সাহেরখালী উচ্চ বিদ্যালয়, বামনসুন্দর এফ এ উচ্চ বিদ্যালয়, ঝুলনপোল বেণী মাধব উচ্চ বিদ্যালয়, বারইযারহাট কিন্ডার গার্ডেন এন্ড হাই স্কুল, মীরসরাই মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, করেরহাট কে এম উচ্চ বিদ্যালয়, মিঠাছড়া উচ্চ বিদ্যালয়, বিশ্ব দরবার মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মারুফ মডেল প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়, মীরসরাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মিঠানালা রামদয়াল উচ্চ বিদ্যালয়, হাইতকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়, মসজিদিয়া বজলুছ ছোবহান চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়, মলিয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়, সুফিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নিজামপুর মোসলিম উচ্চ বিদ্যালয়, মাজেদা হক উচ্চ বিদ্যালয়, আবুতোরাব বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, আবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয়, আল হেরা স্কুল এন্ড কলেজ, বারইয়ারহাট কিন্ডার গার্ডেন এন্ড হাই স্কুল, ফাতেমা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, শফিউল আলম উচ্চ বিদ্যালয়, মহাজনহাট ফজলুর রহমান স্কুল এন্ড কলেজ, ওসমানপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, জোরারগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, নাহেরপুর উচ্চ বিদ্যালয়, গোলকের হাট পিএন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, জয়পুর পূর্ব জোয়ার উচ্চ বিদ্যালয়, মঘাদিয়া নুরুল আফছার উচ্চ বিদ্যালয়, চরশরত মডেল হাই স্কুল, ছৈয়দুল হক উচ্চ বিদ্যালয়, খৈয়াছড়া উচ্চ বিদ্যালয় ও জে.বি. উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর সেরা ৬২ জন শিক্ষার্থী আবেদন করে। যার মধ্যে ৩৩ জন ছিল ছাত্রী। এদের মধ্যে লিখিত পরীক্ষায় ২০ জন কৃতকার্য হয়ে চলে আসে ভাইভা পরীক্ষায়। অতঃপর ভাইভাতে অংশ নেয়া। প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ভাইভা পরীক্ষাটি মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে অভিভাবকদের লাইভ সম্প্রচার করে দেখানো হয়। পরীক্ষকও রাখা হয় বিসিএস ক্যাডার। সব মিলিয়ে নিজেদের সেরাটুকু দেয়ার চেষ্টা ছিল অবিরত। তবুও যদি ছোট খাটো কোনো ভুল ত্রুটি হয়ে থাকে, তবে পরীক্ষার পরিচালক হিসেবে আমি সবার ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টি আকর্ষণ করবো। প্রথমবারের মত ‘অদম্য সেরাদের সেরা’ প্রতিযোগিতার আয়োজন সত্যিই আমাদের বেশ অনুপ্রাণিত করেছে। আমরা ব্যাপক সাড়াও পেয়েছি। আশা করছি, আগামীতে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সকল অভিভাবকদের আরো বেশি সরব উপস্থিতি নিয়ে আয়োজন হবে এই প্রতিযোগিতা।


পরিশেষে আবারও কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই তাদের প্রতি যারা আমাদের সার্বিক আয়োজন সুন্দর করার ক্ষেত্রে অতিথি ও মিডিয়া কর্মী হিসেবে উপিস্থিত থেকে এ আয়োজন সফল করে তুলেছেন। লিখিত পরীক্ষায় : পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হোছাইন সবুজ, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সদস্য ও মিরসরাই উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ আতাউর রহমান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক সিরাজদৌলা, ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান ইয়াছমিন শাহীন কাকলী, ৭নং কাটাছড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আনোয়ার সবুজ, সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান পলাশ, সাংবাদিক নুরুল আলম, মীরসরাই মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহি উদ্দিন, মারুফ স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক নাজিম উদ্দিন, সাংবাদিক নুরুল আলম, সাংবাদিক এম মাঈন উদ্দিন, শান্তিনীড় সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন সোহেল, সংগঠক সাইদুল, দুর্বার সভাপতি হাসান সাইফুদ্দীন, সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন, সাংবাদিক বাবলু দে, সাংবাদিক ইলিয়াস রিপন, সাংবাদিক তৌহিদ এবং সকল শিক্ষার্থীদের অভিভাবক বৃন্দ। ভাইভা পরীক্ষায় : উপ-সচিব ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ড. মুস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা চেয়ারম্যান সমিতির সভাপতি ও বামনসুন্দর উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি কাটাছরা ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম চৌধুরী হুমায়ুন, বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-পরিচালক ৩১তম বিসিএস ক্যাডার ফজলুল করিম রাশেদ, নোয়াখালী সেনবাগ কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রভাষক ৩৫তম বিসিএস ক্যাডার আশরাফুল ইসলাম রুবেল, বামনসু্ন্দর এফ এ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এজেডএম নাজমুল কবীর, বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সদস্য ও বামনুসুন্দর আইডিয়াল স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সাইফুল ইসলাম চৌধুরী এবং সকল শিক্ষার্থীদের অভিভাবক বৃন্দ।

কামরুল হাসান জনি 
চেয়ারম্যান, অদম্য ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন ;
বিদায়ী সিনিয়র সহ সভাপতি, অদম্য-২০০৫।