অদম্য ঈদ উদযাপন; ‌স্বপ্ন জয়ের গল্প – ১

স্বপ্ন জয়ের গল্প – ১ 

ফজলুল করিম রাশেদ, সহকারী পরিচালক , বাংলাদেশ ব্যাংক।

ফজলুল করিম রাশেদ

‘আমাকে সফল মনে করে তোমরা দাওয়াত দিয়েছ। অদম্যের নিকট কৃতজ্ঞ থাকব। জানিনা আমি সফল ব্যক্তি কিনা! তবে আমি খুব ভাল বক্তা নই। তাই ফ্রি ভাবে আলোচনা করছি তোমাদের সাথে।’

– ছাত্রজীবন থেকে আমি ভয়ে কোনদিন পড়া নিয়ে স্যারদের প্রশ্ন করতামনা। বাসায় গিয়ে চেষ্টা করতাম এবং ওটা নিয়ে অধ্যয়ন করতাম খুব। প্রথম টার্গেট ছিল এসএসসিতে ভালো রেজাল্ট করতে হবে। গ্রামে প্রচুর শীত পডত তখন, অলসতা না করে কঠিন পরিশ্রম করেছি। লেখাপড়া না করলে ভালো রেজাল্ট করা যাবেনা, এটা চিরন্তন সত্য। বিকল্প কোন পথ নেই পড়া ছাডা। পড়েছি, ভালো রেজাল্ট করে চট্টগ্রাম শহরে চলে যাই। তারপর স্বপ্ন, ঢাকা ভার্সিটিতে পড়ব। সেই হিসেবে কঠোর পরিশ্রম। প্রথমবার পাইনি , কিন্তু হালও ছাড়িনি। আবার চেষ্টায় সফলতা পেয়েছি। তারপর স্বপ্ন বিসিএস পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হওয়া, সেই একই নিয়মে নিজেকে গড়েছি। যেভাবে স্বপ্ন ছিল, সেভাবে পরিশ্রম করেছি। এরপর সফলতা আসলো।

– আজকে তোমরা যারা এখানে এসেছো, তাদের জন্য দুটো কথা বলবো। তোমরা পডাশুনায় মনোযোগী হও, এটা ছাডা বিকল্প কিছুই নেই। রাজনীতি করার আগে নিজেকে শিক্ষিত করো, শিক্ষার মূল্য সব জায়গায় পাবে। সোস্যাল মিডিয়া, ফেইসবুক এসবে খুব বেশি এডিক্টেড হওয়া যাবে না। আমাকে আমার বাবা নরমাল একটা মোবাইল কিনে দিয়েছিল। আজকে এন্ড্রোয়েড সেট ব্যবহার করি, তাও নিজের পয়সায় কেনা। প্রয়োজন ছাডা অনলাইনে থাকা থেকে বিরত থাকবে। আরেকটি কথা, আমি জীবনে প্রেম করিনি। এসব জিনিসগুলো থেকে নিজেকে যত দূরে রাখবে তত ভাল হবে, জীবন গড়তে ততই সুবিধা হবে।


– সবাই ভালো থেকো। আজকে এই ঈদ স্পেশাল আয়োজন যারা করেছো তারা খুব ভালো কাজ করেছো। তোমরা শিক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দিবে। কোন ছেলে টাকার জন্য শিক্ষা থেকে ঝরে পডল কিনা খেয়াল রাখবে। কারন, একজন শিক্ষিত মানুষ একটি পরিবারেরর দায়িত্ব নেয়ার যোগ্যতা রাখে। এসব ক্ষেত্রে যেকোনো সহায়তা লাগলে আমাকে অবশ্যই জানাবে।

উল্লেখ্য, গত ৪ সেপ্টম্বর অদম্য-২০০৫ ও অদম্য ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন আয়োজন করে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় ও স্বপ্ন জয়ের গল্প অনুষ্ঠানের। উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ফজলুল করিম রাশেদ তার গল্প তুলে ধরেন। 

অনুলিখন : নিয়াজ মুহাম্মদ সাজেদ, সহ-সভাপতি, অদম্য-২০০৫।