পরিবর্তনের প্রজ্জ্বলিত মশাল আজ তারুণ্যের হাতে

কামরুল হাসান জনি

Jony-pp

কামরুল হাসান জনি

মিরসরাই সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী অত্র অঞ্চলে নিবন্ধিত সংগঠন সংখ্যা ৮৪টি। তন্মধ্যে বর্তমানে ৩৫ টি সংগঠন সুন্দর ও সমৃদ্ধ মিরসরাই গঠনের লক্ষে তাদের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব সংগঠনের অধিকাংশই নেতৃত্ব দিচ্ছেন তরুণ-যুবকরা। যার প্রেক্ষিতে এদের দেখাদেখি নিত্যনতুন বাড়ছে আরো বেশকিছু সমাজ সেবামূলক ও সেচ্চাসেবী সংগঠন। অলিখিত হিসাব করলেও দেখা যাবে এমন প্রায় অর্ধশত সংগঠন ছোট ছোট পরিসরে নিজেদের তৈরি করছে, কাজ করছে। বলাই যায়, পরিবর্তনের প্রজ্জ্বলিত মশাল আজ তারুণ্যের হাতে। সময়টাকে নবজাগরণের বিস্ফোরণও বলা চলে ।

অদম্য-২০০৫ এ কাতারে একেবারেই নতুন। সামাজিক ও অর্থনৈতিক দুটো দিক থেকেই কাজে নেমেছে সংগঠনটি। এর সাধারণ সদস্য আমিও। ক্যালেন্ডারের পাতায় হিসাব করলে ১৬ ডিসেম্বর যাত্রা পথে একবছর অতিক্রম করবে অদম্য-২০০৫। শুরুর দিকে প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী পরিষদের আদলে কার্যক্রম শুরু করলেও পরবর্তীতে সদস্যদের মেধা ও প্রতিভার সংমিশ্রণে এটি রূপ লাভ করে অর্থনৈতিক, যুব উন্নয়ন ও সমাজ কল্যাণমূলক সংগঠন হিসেবে। শুরু হয় মাঠ পর্যায়ের অভিযান। যদিও গত একবছর মাত্র কয়েকটি অনুদানের চেক হস্তান্তর আর সদস্যদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী হবার স্বপ্ন দেখানো ছাড়া দৃশ্যমান তেমন কিছু করা হয়নি। তবুও আগামীতে এ অঞ্চলের নাগরিকদের জন্যে শুভ সংবাদের বার্তাবাহক হিসেবেই কাজ করবে সংগঠনটি। খুব কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করছি বলেই এমন বিশ্বাস তৈরি হয়েছে আমার। প্রত্যেক সদস্যের পারস্পরিক সমমনা দৃষ্টিভঙ্গি, অদম্য প্রচেষ্টা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভাবনা পল্লী গাঁয়ে সোনালী স্বপ্ন বুনছে। নিজেদের পাশাপাশি অত্র অঞ্চল আলোকিত করার চমৎকার পরিকল্পনাগুলো এখন জোনাকীর মত জ্বলছে। সূচনাকালে বিজলীর মত জ্বলে ওঠা আলোর স্থায়ীত্বকাল বাড়াতে নেয়াও হয়েছে বছর জুড়ে প্রস্তুতি। যুগান্তকারী পরিকল্পনায় দাঁড় করানো হলো ভিশন ২০২০। এখন দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাবার পালা। এবার দৃঢ় প্রত্যায় ও প্রতিশ্রুতিশীল একেকজন সদস্যকে সময়ের সঙ্গে মানবতার কল্যাণে সপে দিতে হবে , শান্তির নীড়ে রূপান্তর করতে হবে এই জনপথ। জানি, এটি দুরহ তবে দুর্সাধ্য নয়। বিশ্বায়নের যুগে সর্বত্রই প্রতিযোগিতা। এখানেও প্রতিযোগীর ভূমিকায় অবর্তীণ হতে হবে আমাদের। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে সর্বপ্রথম প্রতিযোগিতায় নামতে হয়, অন্য প্রতিযোগীদের সম্পর্কে জানতে হয়, পাশাপাশি সে অনুযায়ী তৈরি করে নিতে হয় নিজেদের। এটিই সাফল্যের সরল সমিকরণ।

যেহেতু জিরো থেকেই শুরু করেছি, সেহেতু পরাজয়ের ভয় স্পর্শ করতে পারবে না আমাদের। সম্মুখে যতটুকু পথ, পুরোটাই প্রাপ্তিতে ভরপুর রাখতে চাই । এও বিশ্বাস করি, খসড়া কর্মসূচীগুলো খুব শিগগিরই সুশীল সমাজ ও সুনাগরিকদের সঙ্গে সংগঠনটির দারুণ সেতু-বন্ধন তৈরিতে সহযোগিতা করবে। খসড়া কর্মসূচীর বেশির ভাগ কাজই অদম্য ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন দ্বারা পরিচালিত হবে। এসব কাজ এগিয়ে নিতে ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনে থাকবে সর্বস্তরের নাগরিকের অংশগ্রহণের দারুণ সুযোগ। যেমন- মাদক মুক্ত, পরিস্কার পরিচ্ছন পরিবেশ উপহার দেয়া, গ্রাম উন্নয়নকল্পে উন্নয়ন কমিটি গঠন করে তাদের সঙ্গে একযোগে কাজ করা। নাগরিকদের কল্যাণে সমাজের প্রতিষ্ঠিতজনদের দিক-নির্দেশনা ও সহযোগিতায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবা, পাবলিক লাইব্রেরী নির্মাণ, চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করণ, শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশে ক্রীড়া ও বিনোদনের ব্যবস্থা করা ইত্যাদি।

ব্যতিক্রমী সংগঠন হিসেবে গঠনতন্ত্র তৈরি ও কিছু আনুসঙ্গিক কাজ নিজের হাতে করতে হয়েছে। সে হিসেবে বলি- অর্থনৈতিক মু্ক্তি, স্বাধীনতা পরবর্তী দ্বিতীয় প্রজন্মের চ্যালেঞ্জ! মূলত এ চ্যালেঞ্জটি মোকাবেলা করতেই অদম্য-২০০৫ এর আনুষ্ঠানিক জন্মলাভ হয়। জাগ্রত চিত্তে সেসব বন্ধুদের প্রতি ভালবাসা জ্ঞাপন করি, যারা অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রামে একঝাঁক তরুণকে সংঘবদ্ধ করেছেন। যুব সমাজকে সঠিক দিক নির্দেশনা দেয়া হলে এ চ্যালেঞ্জ অনায়াসে জেতা সম্ভব বলেই আমার দৃঢ় বিশ্বাস। ইতোমধ্যে কিছুটা দৃশ্যমানও হয়েছে। অত্র এলাকায় এ সংগঠনটির দেখাদেখি আরো কয়েকটি কলি ফুটতে দেখছি। আমাদের লক্ষ্যও ছিল এমন, দ্রুত অন্যরা অনুকরণ করার মত তৈরি হয়ে ওঠা। যা সামগ্রিকভাবে অর্থনৈতিক পরিবর্তনের বার্তা বহন করবে এবং এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে অত্র অঞ্চলকে সমগ্র দেশের মডেল হিসেবে রূপান্তর করাও সম্ভব হবে।

একটি সহজ কথা বলেই শেষ করবো- ঘুর্ণায়মান পৃথিবীতে সময়ে সময়ে পরিবর্তনের ডাক দিয়ে কেউনা কেউ মশাল হাতে অগ্রগামী সৈনিক রূপে আর্বিভূত হয়েছেন। তার হাত ধরে পরিবর্তন এসেছে। কখনো সমাজে, কখনো সামগ্রিক ভূখন্ডে। এ পরিবর্তন, একজন বা দলবদ্ধ সৈনিকের মশাল হাতে ছুটে আসা সবি মানবীয় ঐতিহ্য, যা ইতিহাস ধারণ করছে যুগ যুগ ধরে। এখন এ সময়েও স্পষ্টভাবে পরিবর্তনের আভাস পাচ্ছি। তারুণ্যের হাতেই যে মশালের প্রজ্জ্বলিত শিখা। এবার পরিবর্তন হবেই। তরুণরা জেগে ওঠেছে, সমাজ এর ফল ভোগ করবে এবং অত্র অঞ্চল সাফল্যের অংশীদার হবেই। সবশেষে, বার্ষিকী-২০১৬ এর এ স্মরণীকা ও সংগঠনের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।

লেখক : সহ-সভাপতি, অদম্য-২০০৫