অন্তজ্বালায় পুড়বো কেন ?

কামরুল হাসান জনি

Jony-pp

কামরুল হাসান জনি

অনেকদিন পর বন্ধুদের জন্যে লিখতে বসা। সম্প্রতি ঈদ উদযাপন পরবর্তী অনেক বন্ধুর সঙ্গেই কথা হলো। মানসিকভাবে চাঙ্গা রয়েছেন সবাই। ঈদুল আযহার অনুষ্ঠানে বন্ধুরা আরো একবার প্রমাণ করে দিলেন আন্তরিকতা থাকলে দূর-দূরান্ত, অজুহাত অথবা কোনো ব্যক্তিগত কাজের হিস্সায় কাউকে সংগঠন থেকে দূরে রাখতে পারে না। যারা উপস্থিত ছিলেন তাদের জন্যে অকৃত্রিম ভালাবাসা আর যারা উপস্থিত থাকার চেষ্টা করেও থাকতে পারেননি তাদের জন্যেও ভালবাসা।

দেখতে দেখতে আমরা পার করে দিয়েছি প্রায় ৯টি মাস। হিসাব করলে একমাস বেড়ে দাঁড়াবে। এ সময়ে আমরা আমাদের সেরাটুকুই দেয়ার চেষ্টা করেছি, দিয়েছিও। ফলাফল স্বরূপ আমরা পেয়েছি বন্ধুদের অগাধ আন্তরিকতা ও ভালবাসা। ঈদ উদাযপন করতে গিয়ে লক্ষ্য করেছেন নিশ্চয়ই, আমাদের এগিয়ে চলার ধরণ দেখে বেশ কয়েকটি ব্যাচ তাদের কাজ শুরু করেছে। টিম ওয়ার্ক করছে, এগিয়ে যাচ্ছে তারাও। বিশ্বাস করি, তারা এগিয়ে যাবে। কারণ, যারা অনুকরণ করে তারা দ্রুত আগাতে পারে। কিন্তু আমরা ? আমরা-তো তাদের আগেই শুরু করেছি। সেক্ষেত্রে আমাদের আরো দূরন্ত হতে হবে। আরো বেশি আন্তরিকতার সহিত কাজে নামতে হবে, দ্রুত দৌঁড়াতে হবে লক্ষ্যবস্তুর দিকে। কি ভাবছেন – পারবেন তো দৌঁড়াতে ? ইতোমধ্যে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, পরিকল্পনার ছকও তৈরি করেছি, আপনাদের সঙ্গে নিয়ে আরো জোরালো ভাবে নামতে চাই কাজে। এখন শুধু কাজ আর কাজ করার পালা। তার আগে বলে রাখি, কিছু কিছু বন্ধু এখানো বিশ্বাস করতে পারছেন না, যারা এখনো ঘোরের মধ্যে আছেন। ভাবছেন- সত্যিই কি অদম্য-২০০৫ সংগঠনটি এগিয়ে যাচ্ছে ? এসব প্রশ্নের উত্তর নেই। একসময় এসব প্রশ্নের উত্তর দেয়ার সময় ছিল, পরিস্থিতি ছিল, পরিবেশ ছিল। এখন নেই। এখন আর আমাদের পিছু ফিরে তাকাবার সময়ও নেই। সময় শুধু আগে বাড়ার। প্রশ্নকারী ওসব বন্ধুদের জন্যে আমি/আমরা আরো সময় দেব। ডিসেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত তাদের হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকবে। আশা করি, এ সময়ের মধ্যে তারা আমাদের সঙ্গী হবেন।

ef
যাই হোক, কাজের কথায় আসি। আমি আগেই একবার বলেছিলাম- সংগঠনের সকল নিয়ম যদি পূর্ণ পূর্ণ ভাবে বন্ধুরা মেনে নিতে পারেন, গ্রহণ করতে পারেন তবে আমরা দ্রুততার সঙ্গেই আগাতে পারবো। এগিয়ে যাচ্ছিও। আমাদের দেয়া প্রতিশ্রুতি মত, এবারের ঈদের অনুষ্ঠানে পুরো খরচ সংগঠন বহন করেছে। ব্যাপারটা কি লক্ষ্য করেছিলেন বন্ধুগণ ? এর আগে আমার কাছে বেশি কিছু প্রশ্ন এসেছে, অনেকে অভিযোগ তুলেছেন- কোনো অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলেই টাকা দিতে হচ্ছে। হুম, আমি স্বীকার করছি। আমরা টাকা নিয়েছি, যেহেতু আমরা নিরুপায় ছিলাম, আমাদের সামর্থ ছিল না। তবে কথা দিচ্ছি, বার্ষিক ট্যুর ব্যতিত ভবিষ্যতে আর বন্ধুদের থেকে কোনো অর্থ নিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজন হবে না। যাবতীয় সকল খরচই সংগঠন বহন করবে। শুধু অনুরোধ একটাই সকল অদম্য বন্ধুর বার্ষিক ফি নিশ্চিত করতে হবে।

‘নিজে বার্ষিক ফি জমা দিন, অন্য বন্ধুকেও বার্ষিক ফি দিতে অনুপ্রাণিত করুন।’ -এমন একটি ক্ষুদে বার্তা নিশ্চয়ই আপনি পেয়েছিলেন। বার্তাটি পেয়ে যদি আপনি আন্তরিকতার সহিত দায়িত্ব নিয়ে থাকেন তবে ধন্যবাদ গ্রহণ করবেন। জি, হ্যাঁ। আমার আপনার দায়িত্ব সমান সমান। যদি আমরা সময় মত বার্ষিক ফি পরিশোধ করি এবং অন্য বন্ধুদের বার্ষিক ফি প্রদানে উৎসাহিত করি তবেই সংগঠন সচল থাকবে। দায়-দায়িত্ব নিয়ে আচার-অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারবো, পারবো সকল বন্ধুদের মন রক্ষা করতে। এ ব্যাপারে বন্ধুদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

জানিয়ে রাখা ভাল, আমাদের প্রায় ষাটের কাছাকাছি বন্ধু এখন সঞ্চয়ে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছেন। যারা ইতোমধ্যে সঞ্চয়ে এসেছেন তাদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ থাকবে, সময় মত মাসের ১০ তারিখের মধ্যে সঞ্চয় হিসাব ক্লিয়ার করবেন। এতে করে সংগঠনের উপর আপনার দায়িত্বশীল মনোভাবের পরিচয় মিলবে, পাশাপাশি ব্যক্তি আপনার উপরও সংগঠনের আস্থা তৈরি হবে। আর যারা নতুন করে সঞ্চয়ে আসতে চান তারা দ্রুত যোগাযোগ করতে পারনে। মনে রাখবেন, সঞ্চয়ী বন্ধুদেরকেই আমরা সক্রিয় বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করি। এছাড়া আমরা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ব্যবসা দিয়েই সামনে পা রাখছি। কৃষি প্রকল্প আমাদের সে রকমই একটি প্রজেক্ট। মাত্র দু মাসে কৃষি প্রকল্পের ব্যবস্থাপক আমাদের দারুণ সাফল্য এনে দিয়েছেন। এবারও আমরা শেয়ার বাড়াবো, প্রকল্পে নতুন নতুন মাত্রা যোগ করবো। আপনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন তো ? অর্থনৈতিক মুক্তিকামী একজন বন্ধু হিসেবে আপনি পিছিয়ে থাকবেন কেন ? কেনইবা অর্থনৈতিক ভাবে স্বচ্ছল হওয়ার জন্যে ধারাবাহিক ভাবে অন্তজ্বালায় পুড়বেন? আমি নিজেও নিজেকে প্রশ্ন করি, অন্তজ্বালায় পুড়বো কেন ? নিজের আয়ের ছোট একটি অংশ গোপণে সঞ্চয় করা যায়। আজ থেকে, এখন থেকে একমাস, দুমাস, ছয়মাস, একবছর, দুই বছর… এভাবে চলুক, আমি/আপনি যতদিন। পাশাপাশি ছোট ছোট বিনিয়োগে লাভ আসে, চাপ কমে নিজের উপর। শুধু নিজের সৎ ইচ্ছেটাই যথেষ্ট।

আমরা হাত প্রসারিত করে দিয়েছি শুধু বিজয় চিনিয়ে আনবো বলেই, কাছাকাছি এসেছি একেকজন বন্ধুকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিবো বলেই। এবার আপনার পালা, সময় এখন এগিয়ে যাবার। আপনি হাত বাড়িয়ে দিন, আমরা টেনে নিবো। আত্মবিশ্বাস ও মনোবল নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ৃন। বিজয় আমাদের আসবেই।

 

লেখক : সহ-সভাপতি ; অদম্য-২০০৫।
১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ইং